দুঃশাসনের কালরাত শেষ হয়ে এসেছে: রিজভী

0
643

অনলাইন ডেস্ক : গত নয় বছরে ধরে দেশ চালানো আওয়ামী লীগের সময় শেষ দেখেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, মানুষ এখন প্রতিরোধের জন্য অপেক্ষা করে আছে। খালেদা জিয়ার কিছু হলেই তারা মাঠে নামবে।
সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা এমন দাবি করেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে শেখ হাসিনার ‘মাইনাস ওয়ান ফর্মুলার নীলনকশা’ হিসেবে দেখছেন রিজভী। বলেন, ‘এদেশের মানুষ মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে অনড় প্রস্তুতি গ্রহণ করে আছে।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই দুঃশাসনের কালরাত শেষ হয়ে এসেছে। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বেগম জিয়ার মামলা নিয়ে সরকার কোনো হীন পরিকল্পনা করে থাকলে শেখ হাসিনার সরকার নিজেদের পতন থেকে আত্মরক্ষা করতে পারবে না।’
খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে মন্ত্রী শাহজাহান খান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্প্রতি বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
রিজভী বলেন, ‘নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খান গতকাল বলেছেন খালেদা জিয়ার সাজা নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও গতকাল বলেছেন জেলে গিয়েই বেগম খালেদা জিয়াকে আপিল করতে হবে। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলেছেন বেগম খালেদা জিয়াকে একদিনের জন্য হলেও জেলে যেতে হবে। তাদের বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়-আদালতের রায় কী হবে তা তারা জানেন এবং আদালতকে প্রভাবিত করে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে চাচ্ছেন।’

রিজভী বলেন, ‘দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের পথের কাঁটা হলেন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এবং বিএনপি। আর খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে পারলে শেখ হাসিনার পথের কাঁটা দূর হয়ে যায়। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলোতে তাড়াহুড়া করে রায়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’
‘এগুলোর আসল উদ্দেশ্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জনগণের বুঝতে বাকি নেই যে, এসব হচ্ছে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে সরকারের নীল নকশা।’
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না বলেও জানান রিজভী। বলেন, ‘আর বিএনপিকে মাইনাস করে এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’