ত্রিশাল উপজেলায় ত্রাণ অফিস সহকারী সুজন মিয়ার বেপরোয়া কার্যকলাপের অভিযোগ

0
80

এস আর বাবুল ময়মনসিংহ : দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধিনে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাজে নিয়োজিত সুজন মিয়া সরকারী নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে নিজ এলাকার প্রভাব খাটিয়ে কর্মস্থলে নিয়োজিত থেকে বিগত তিন অর্থ বছরে সাবেক সচিব জনাব মেজবাউল হকের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থনাপনা অধিদপ্তর থেকে উপজেলার গ্রামীণ জন গোষ্ঠির ও অতি দরিদ্র মানুষের কর্ম সংস্থানের জন্য দেওয়া প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এসব বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীণ এলাকার কাঁচা রাস্তা নির্মাণ,পূন: নির্মাণ সংস্থার কাজ, বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ এবং বেকার ও অতি দরিদ্র মানুষদের কাজ দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করা নামে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে আর এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য রয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যান সহ সরকারের উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

কিন্তুু দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঐ সময়ের সচিবের এলাকার সন্তান হিসাবে সুজন মিয়ার প্রচার রয়েছে,প্রভাব খাটিয়ে এই অধিদপ্তরে চাকুরী পান এবং প্রথম পোষ্টিং হিসাবে ২০১৪ সালে নেত্রকোণা জেলার বারহাট্রা উপজেলায় যোগদান করেন, এর পর পরেই নিজ এলাকায়। মন্ত্রীপরিষদের সচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-৪৬.০৪৬.০০৬.০০.০০.০০১.২০১২-১০৪৫.তারিখঃ- ০১ সেপ্টেম্বের ২০১৫ইং, মূলে ও জারিকৃত আদেশের (ঘ) তে বর্ণিত বিধি লংগন করে নিজ এলাকায় চাকরী করে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি একই নির্দেশনা ভঙ্গ করে ভালুকা উপজেলা ত্রাণ অফিস সহকারী হেলাল উদ্দিনকে তার নিজ উপজেলা গফরগাঁওয়ে বদলি করা হয়েছে। বর্তমান ও বিগত দিন গুলোতে সুজন মিয়ার বেপরোয়া কার্য্যকলাপের কারনে বিগত অর্থ বছরে দায়িত্ব পালনকারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব মাজহারুল হক অন্যত্র বদলী হতে বাধ্য হন। বর্তমান পি.আই.ও জাকির হোসেন একই অবস্থায় অর্থাৎ নানা অসুবিধা সৃষ্টি হওয়াতে তিনিও সঠিকভাবে এখানে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। অর্থাৎ সরকারী বিধি লঙ্গন করে প্রভাব খাটিয়ে নিজ উপজেলা ত্রিশাল এ যোগদান করেন এর পরেই তিনি নিজেকে লাভবান করার জন্যে অর্থের নেশায় চাচা হিসাবে দাবিদার পরবর্তীতে পদায়নকৃত শিক্ষা ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সচিব মেজবাউল হক এর নাম ভাঙ্গিয়ে ও প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রকল্প বাস্থবায়নের সাথে জড়িত প্রকল্প কমিটি ও প্রকল্প তদারকি কাজ নিয়োজিতদের উপর প্রভাব বিস্তার করে ও ভয়ভিতি দেখিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে অলিখিত ভাবে শতকরা হিসাবে কমিশন আদায় করতে থাকেন।

তার দাপটে প্রকল্প কমিটি অসহায় হয়ে পড়েন এরই মধ্যে চাচা পরিচয় দেওয়া মেজবাউল হক চাকরী থেকে অবসরে যান। কিন্তু সুজন মিয়া কোনো কিছুতেই তিনি পরোয়া করেননি। গেল ১৬-১৭ অর্থ বছরে একই কায়দায় তিনি উপজেলায় দুর্যোগ অধিদপ্তরের দেওয়া উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে কমিশন আদায় করে নেন । আর এসব আদায় কৃত টাকা দিয়ে সম্পদ গড়ে তোলার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রেসক্লাবের নিকট অভিযোগ দায়ের করা হলে, উপজেলা ভূমি অফিসার ( এসিলেন্ট) কে তদন্ত করতে দেন। সুজন মিয়া তদন্ত হওয়ার আগেই প্রভাব বিস্তার করে তদন্ত কার্যক্রম নিজের পক্ষে নিতে ও ঘটনা দামা-চাপা দিতে সমর্থ হন।এ নিয়ে উপজেলার সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে । দায়িতত্ববান কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সুশীল সমাজ তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে বিশেষ সংস্থায় তদন্তাদীন রয়েছে বলে জানা যায় ।