তিন মহানগরেই নৌকার গণজোয়ার: কাদের

0
23

অনলাইন ডেস্ক: খুলনা ও গাজীপুরের মতো রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আগেই হেরে যাচ্ছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

বুধবার সকালে গাজীপুরের টঙ্গী সড়ক উপবিভাগীয় কার্যালয়ে আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে যানজট নিরসনকল্পে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন কাদের।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সভায় বোমা হামলার দায় কার-জানতে চাইলে কাদের বলে, ‘যেখানে আমরা জিততে যাচ্ছি, জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, সেখানে কেন আমরা ককটেলের মতো একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে যাব? এটা তারাই করতে পারে যাদের হেরে যাওয়ার ভয় আছে।’

‘রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও অতীতের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের জন্য রাজশাহীর জনগণ মেনে নিয়েছে সেখানে উন্নয়নের জন্য লিটনকেই দরকার। কারণ মানুষ এখন অনেক বাস্তবধর্মী।’

‘এই গাজীপুরে গতবার মানুষ বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু তারা গাজীপুরের মানুষের কোন উন্নয়ন করেনি। কাজেই জনগণ এখন খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে।’

আমাদের স্বাধীনতার পর কিছু কিছু নির্বাচনে ঝামেলা হয়েছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সাথে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে মেলালে চলবে না। কারণ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আমন্ত্রণকে প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন বর্জন করে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি।’

‘আমাদের ইতিহাসে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, আগেই যতটা আশঙ্কা-আতঙ্ক ছড়ায়, নির্বাচনের সময় ততটা সুন্দরভাবে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিরোধীদলের বর্জনের মুখে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ যেমন টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে, তেমনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সে সময়ের বিরোধী দল আওয়ামী লীগের বর্জনের মুখে নির্বাচন করে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগ তার মেয়াদ শেষ করার পথে থাকলেও বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে পারেনি দেড় মাসও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে স্বর্ণ ইস্যুতে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি একটি ইস্যু খুঁজছে। তারা আন্দোলনের নামে সহিংসতার চেষ্টা করছে। একটা কিছু পেলেই কে কী বলল, সত্যতা কতটুকু, তথ্য-প্রমাণ কতটুকু, সেটা না জেনে হুট করে মন্তব্য করলো যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা লুট হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো স্বর্ণ গায়েবের ঘটনা ঘটেনি। যেটুকু হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিষ্কারভাবে বলেছে সেটা হচ্ছে ক্ল্যারিক্যাল ভুল বা করণিক ত্রুটি।

ঈদের ১০ দিন আগে থেকে মহাসড়কে নির্মাণকাজ বন্ধ

ঈদুল আযহায় সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ১০ দিন আগে থেকে মহাসড়কে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সড়কমন্ত্রী। ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে ঈদের আগে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, গার্মেন্টস কর্মীদের পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া, ঈদের আগে তিনদিন মহাসড়কে পণ্যবাহী ভারী গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা তবে কাঁচামাল ও পচনশীল পণ্য, জ্বালানি এর আওতামুক্ত থাকবে।

সড়কের দুই পাশের ফুটপাত মুক্ত রাখা, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন যেমন: নসিমন, করিমন, অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। হাইওয়ের উপর সিটি করপোরেশনের ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং হয়। এখানে অনেক বিদেশিরা চলাচল করে। আমাদের এটা ইজ্জতেরও বিষয়। মানুষ যখন রাস্তা দিয়ে যায় দুর্গন্ধে একটা বাজে অবস্থা সৃষ্টি হয়।’

‘আমি নবনির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বলব, রাস্তা-ঘাট সব করছি, বিআরটি করছি, ফ্লাইওভার করছি। গাজীপুরের জন্য সবকিছু করা হবে। নতুন মেয়র জাহাঙ্গীর সাহেবকে বলব রাস্তাটা যেন আবর্জনা না হয়।’

‘এর আগের মেয়রকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকবার বলেছি কিন্তু বাস্তবে কোন সাড়া পাইনি। একটা পর্যায়ে আমি এমনও বলতে বাধ্য হয়েছিলাম যদি রাস্তার উপর ময়লা ফেলা হয়, তাহলে ওই ময়লা যারা ফেলে তাদের অফিসের সামনে ফেলে দিতে। এছাড়া আমার আর কিছু বলার ছিল না।’

‘গাজীপুরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুব খারাপ। বাংলাদেশের কোন হাইওয়েতে এতো বাজে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। কাজেই নতুন মেয়রকে অনুরোধ করব, এই ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে ডেভেলপ করার জন্য এবং আবর্জনামুক্ত সড়ক ও মহাসড়ক। আশা করি মেয়র সাহেব জনস্বার্থে বিষয়টি দেখবেন।’

পরে নবনির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হয়েছি, তবে এখনও দায়িত্ব বুঝে পাইনি। তবুও আমি বর্তমানে যিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে কাজ করব।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন নেই, তাই আমি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট একটি ডাম্পিং স্টেশনের জন্য লিখিত দিয়েছি। টঙ্গী থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত দুই পাশের ফুটপাত মুক্ত করা হবে। মহাসড়কের দুই পাশে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলো দ্রুত সরিয়ে একটি ট্রাক টার্মিনালে রাখতে হবে।’

‘কোনো রাস্তায় হাট ইজারা দেওয়া হবে না। সিটি করপোরেশন থেকে কোন ফুটপাত ইজারা দেওয়া হবে না। যেগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে সেগুলো বাতিল করা হবে।’

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুর রহমান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, সড়ক ও জনপদের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর সবুর, ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েতউল্লাহ প্রমুখ।