ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে হাজী আতিক

0
131

বার্তা প্রবাহ ডেস্ক : ঢাকা-৫ আসনের প্রবীণ সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে অনেক আগেই। করোনার কারণে উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হলেও থেমে নেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। রাস্তাঘাটে, দেয়ালে বিলবোর্ড ও পোস্টার সাঁটিয়ে প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন অনেকেই। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঢাকা-৫ আসনে প্রার্থীরা সরব।

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখবেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এটাই স্বাভাবিক।

ঠিক তেমমনি ঢাকা – ৫ আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী হাজী মোঃ আতিকুর রহমান আতিক।

সাবেক এই ছাত্রনেতা ডেমরার কৃতি সন্তান ঢাকা মহানগর দক্ষিনের অন্যতম প্রধান ইউনিট ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলীর জনপ্রিয় নেতৃত্ব বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, ৭০ নং ওর্য়াডের প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলর। স্থানীয় জনগণের ভাষা?য় যেকোনো বিপদে আপদে তাদের পাশে দাঁড়ান হাজী আতিক।
এ এলাকাবাসী জানান, হাজী আতিক দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। জনগণের খোঁজখবরও নিয়মিত রাখেন। তার নেতৃত্বেই পিছিয়ে থাকা ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে গতি পেয়েছে।

তারা আরও বলেন, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী তথা ঢাকা-৫ আসনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অসামান্য অবদান রাখছেন হাজী আতিক। এলাকার অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে অসংখ্য মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির ও স্কুল-কলেজ তৈরি করেছেন।

হাজী আতিককে মনোনয়ন দেওয়া হলে এলাকার মানুষ খুশি হবে বলে জানিয়েছেন যাত্রবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের কাছে উনার (আতিক) গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি এমপি হলে এই এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।

এ প্রসঙ্গে আলাপকালে হাজী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জন্য যে কাজ করে যাচ্ছি, নেত্রী (শেখ হাসিনা) এই আসন থেকে মনোনয়ন দিলে তার পূর্ণতা পাবে। এলাকার মানুষ জানে আমি তাদের জন্য কীভাবে কাজ করি। জনগণ আমাকে ভালোবাসে। তাই আমি জনগণের সঙ্গে মিশে আছি। আমার কাজের কারণেই এলাকাবাসী আমাকে আপন করে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা উপনির্বাচনে আমাকে নৌকার টিকিট দিলে ঢাকা-৫ আসনকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলব ইনশালস্নাহ।

একনজরে হাজী আতিক :১৯৬৭ সালে ডেমরার এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পারিবারে জন্মগ্রহণ করেন আতিক। তার বাবা হাজী এম এ গফুর ছিলেন দানবীর ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। এরই ধারবাহিকতায় ডেমরায় ২০১৩ সালে হাজী এম এ গফুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষার মানোন্নয়নে হাজী আতিকও কাজ করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে হাতেখড়ি হয় আতিকের। ১৯৮৩-৮৪ সালে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ডেমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ গণতান্ত্রিক বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আতিক। তাছাড়া আওয়ামী লীগের কর্মীদের সংগঠিত করতেও অসামান্য অবদান রয়েছে তার। দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে অসংখ্যবার বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচার- নির্যাতের শিকার হন এই লড়াকু রাজনীতিক।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সজল, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও শহীদ শেখ কামালের স্ত্রী শহীদ সুলতানা কামালের ভাতিজি মেহরীন মোস্তফা দিশিসহ এক ডজন প্রার্থী। এসব প্রাার্থীদেরর মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন হাজী আতিক। দলীয় সুত্রে জানা গেছে, সবকিছু নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। ঢাকার প্রবেশদ্বার খ্যাত আসনে আগামী দিনের সরকার বিরোধীদের আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থী করা হবে।

এর আগে ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) আসনে বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা গত ৬ মে মৃত্যুবরণ করায় এ আসনটি শূন্য হয়।

এ আসনটিতে গত সংসদ নির্বাচনে হাবিবুর রহমানের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির নবীউল্লাহ নবী। এবারও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাকেই বেছে নিচ্ছে দলটি এমন আভাস পাওয়া গেছে।

এছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ১৪ দলের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বরের মধ্যে এ আসনের ভোট হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।