টেকনাফ সীমান্তে সর্তক অবস্থানে বিজিবি

0
62

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্তক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। পাশাপাশি টেকনাফ উপজেলা সীমান্তের হোয়াইক্যং, উনচিপ্রাং, ঝিমংখালী, খারাংখালী, হ্নীলা, লেদা, নোয়াপাড়া, দমদমিয়া, টেকনাফ সদর, নাজির পাড়া, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকাসহ সীমান্তে বসবাসরত নাগরিকদের নাফ নদীতে মাছ ধরা ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার দুপর ১২ টার দিকে সদ্য যোগদানকারী টেকনাফ বিজিবির ২ নম্বর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসাদুজ্জামান চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মিয়ানমারের যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জবাব দিতে সতর্ক রয়েছে বিজিবি। মিয়ানমারে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে কাজ করে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার উখিয়ার কোনারপাড়া সীমান্তের জিরো লাইনের সীমান্তের ওপারে পাহাড়ে বাংকার খুঁড়ে মিয়ানমারের সেনারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। ওই পয়েন্টে দেড় শতাধিক সেনা মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন বিজিবির এক সদস্য। সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছে প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা। তারা গত আগস্ট থেকে সেখানে রয়েছেন।
শুক্রবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া নাফ নদীর সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের শক্ত ও সর্তক অবস্থানে থেকে টহল দিতে দেখা গেছে।
সীমান্তে বসবাসকারী সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন গভীর রাতে মিয়ানমারে এখনো গুলি বর্ষণের শব্দ পাওয়া যায়। অনেকবার গুলি বর্ষণের আওয়াজে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। মাঝে মাঝে খুবই ভয়ের রাত কাটে তাদের।
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যবাসন বন্ধ করতে মিয়ানমারের আরেকটি নতুন কৌশল বলে জানিয়েছেন টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা আবদুল মতলব। তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বসবাস করুক তা চায় না মিয়ানমার সরকার। তারা বার বার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের সেদেশ থেকে নিধন করতে চায়। মিয়ানমারে এখনো সেনারা রোহিঙ্গাদের অত্যাচার চালাচ্ছে, ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আসা এখনো বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্তক অবস্থানে রয়েছে। মিয়ানমার কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে, সমুচিত জবাব দেয়া হবে। নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আগত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহতায় দিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় দেয়া হবে।
এদিকে অদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ শুক্রবার বিকালে এ বৈঠক হয়।