জুনের মধ্যে সাড়ে ৪ কোটি মানুষের টিকা

0
57

আসছে ফেব্রুয়ারি মাসে তিন কোটি ডোজের পর আগামী জুনের মধ্যে আরও ৬ কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশে আসছে। এতে দুই ডোজ মিলে একটি টিকা হিসেবে জুন মাসের মধ্যে দেশে সাড়ে চার কোটি মানুষের টিকা আসবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও টিকা আসবে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন।

মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক টিকার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি আরও জানান, মন্ত্রিসভাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন আগামী জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ভ্যাকসিন পেয়ে যাব। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে টিকা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচি বা ইপিআইয়ের যে ব্যাপক কার্যক্রম আছে, করোনার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করার চিন্তা করা হচ্ছে। আপাতত অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে চিন্তা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যদি অন্য কেউ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত প্রস্তাব নিয়ে আসে সরকার কাউকেই মানা করবে না। আরও ৬ কোটি ভ্যাকসিন কোভেক্সের মাধ্যমে মে-জুন মাসের মধ্যে আসবে। এক মাস আগে-পরেও হতে পারে। দুটি ডোজ ভ্যাকসিন মিলে একটি টিকা হবে। প্রথম দফায় দেড় কোটি এবং দ্বিতীয় দফায় আরও তিন কোটি মানুষের জন্য টিকা আসবে। এতে সাড়ে চার কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে; যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ।

মাইনাস ১৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় করোনাভাইরাসের টিকা সংরক্ষণ হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার কাঠামো আমাদের নেই। একমাত্র কোল্ড স্টোরেজে রাখা যাবে। তারপর যখন বের করতে হবে তখন মাইনাস ১৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে হবে। বিষয়গুলো দেখার জন্য কারিগরি কমিটি রয়েছে। তারা যদি মনে করেন আমাদের যে অবকাঠামো আছে সেটাকে বড় কোনো পরিবর্তন না করে টিকা দেওয়া যায়, তাহলে সেভাবেই হবে। এটা কারিগরি বিষয়। এখন পর্যন্ত আমরা যা জানি, মডার্না এবং ফাইজার দুটোর টিকাই মাইনাস ২৫ ডিগ্রি এবং আরেকটা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে।’

ধনী দেশগুলো যেখানে তাদের সব নাগরিককে সম্ভব দ্রুততম সময়ে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে গরিব দেশগুলোর জন্য টিকা পাওয়া হয়ে উঠেছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গরিব দেশগুলোও যাতে টিকা পায়, সেই লক্ষ্যেই গত এপ্রিলে কভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি বা কোভ্যাক্স নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা গ্যাভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস বা সিইপিআই। এই জোট আসছে নতুন বছরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ৯২টি দেশে ১৩০ কোটি ডোজ টিকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের জন্য টিকা সরবরাহ করবে তারা। বাংলাদেশ সরকার ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে চুক্তি করেছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য ১৬ নভেম্বর অর্থ বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দও দিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, “বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাস্ক পরার ওপর আবারও গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়েও আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।”

মন্ত্রিসভা বৈঠকে কুড়িগ্রাম জেলায় ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ করার জন্য আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশে মোট ১৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এরমধ্যে ৪৬টি সরকারি এবং ১০৭টি বেসরকারি। আর দেশে সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালু আছে।

এ ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদের আসন্ন নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দেবেন এবং বাংলাদেশ গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস নীতিমালাও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠকে কভিড-১৯ সংক্রমণরোধে স্থানীয় সরকার বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপ ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেস্কো) ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর দ্য ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।