গোপন বিয়ে স্বীকৃতি না পেয়ে কথিত স্ত্রী কর্তৃক আইনজীবিকে হত্যা

0
88

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : গোপন বিয়ের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কথিত স্ত্রী রাশেদা বেগম সহযোগিদের নিয়ে চট্টগ্রামে তরুণ আইনজীবী ওমর ফারুক বাপ্পীকে গোপন অঙ্গ কেটে হত্যা করেছে।
২৭ নভেম্বর সোমবার দিনভর কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রাশেদা বেগম (২৭) সহ ৬ জনকে গ্রেফতারের এসব হত্যাকান্ডের বিষয়টি স্বীকার করে পুলিশকে হত্যাকান্ডে বিবরণ দিয়েছে খুনিরা।
সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের খুলশী কার্যালয়ে গ্রেফতারকৃদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মেট্রো) মো.মঈন উদ্দিন।
পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে রাশেদা জানান, মাদক মামলা জামিনের বিষয় নিয়ে এডভোকেট বাপ্পীর সাথে পরিচয় হয় রাশেদার সে সুবাদে তাদের গোপনে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বাপ্পী ২ লাখ টাকার কাবিন দেয় বলে জানায় রাশেদা। বিয়ের ৫/৬ মাসে মাথায় তাদের মধ্যে শুরু হয় বিরোধ। এ নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা পাল্টা মামলা করে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নগরীর বাকলিয়া থানায় এবং ২০১৭ সালের এপ্রিলে কোতোয়ালী থানায় বাপ্পী তার স্ত্রী রাশেদার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করেছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্ত্রী রাশেদা বেগমও বাপ্পীর বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ এডভোকেট বাপ্পীকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি জামিন নিতে একটি ভুয়া তালাক নামা সৃজন করে তা আদালতে দিয়ে মামলায় জামিন নেন।
এ নিয়ে রাশেদার সাথে বাপ্পীর সম্পর্কের আরো অবনতি হয়। রাশেদা জানান, বাপ্পী প্রায়ই সময় তাঁকে দুই পয়সার মেয়ে বলে সম্মোধন করত। এবং তাকে টাকা দিয়ে বিদায় করে দেয়ার ভয় দেখাত।
অন্য দিকে তাকে সামাজিক ভাবে স্বীকৃতি না দিয়ে বাপ্পীর পরিবার তাকে বিয়ে করানোর জন্য অন্যত্র মেয়ে দেখতে থাকে। এতে রাশেদার মনে ক্ষোভ জন্মে।
অন্য দিকে বাপ্পী রাশেদার কাছ থেকে মুক্তির জন্য পথ খুজঁতে থাকে। এবং তার পরিবারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়টি জানাজানি হলে রাশেদা ভাবতে থাকে হয় বাপ্পী তাকে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবে, না হলে বাপ্পীকে অন্য কারো হতে দেবে না।
এর মধ্যে রাশেদা তার পূর্ব পরিচিত হুমায়ুন রশিদ (২৮) সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করলে হুময়াুন তাকে বলে যে বাপ্পীকে চাপ দিয়ে কাবিন নামার টাকা বাড়িয়ে নিলে সে তাকে আর তালাক বা ছেড়ে দিতে চাইবে না।
এরপর রাশেদা বাপ্পীর কাছ থেকে কাবিন নামার টাকার অংক ৫ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করার জন্য সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেয়ার পরিকল্পনা করে। এ কাজে তার বন্ধু হুমায়ুন আরো ৪ জনকে ঠিক করে। তারা সবাই ইপিজেড এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক। হুমায়ুনের ইপিজেড এলাকায় দোকান রয়েছে।
পরিকল্পনা মতে গত ২০ নভেম্বর রাশেদা হুমায়াুনকে নিয়ে নগরীর চকবাজার এলাকার কেবি আমান আলী রোডের (বড় মিয়া মসজিদ এর সামনে) নুর বেগম লেইনে একটি বাড়ী ভাড়া নেয়। এসময় বাড়ীর মালিকের সাথে হুমায়ুনকে ভাই পরিচয় দেয় রাশেদা।
২৪ নভেম্বর রাশেদা আপোষের কথা বলে বাপ্পীকে তার ভাড়ার বাসায় ডেকে নেয়। পরে রাত ১০টার দিকে রাশেদার বন্ধু হুমায়ুন কিলার গ্রুপের অন্য সদস্যদের নিয়ে উক্ত বাসায় গিয়ে দরজা নক করে। এসময় রাশেদা দরজা খুলে দেয়ার পর পরিকল্পনা মতে হুমায়ুন রাশেদার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে চিৎকার করতে নিষেধ করে। অন্যরা বাসার ভিতরের রুমে গিয়ে বাপ্পীকে হাত পা বেধেঁ মুখে টেপ লাগিয়ে দেয়। এসময় বাপ্পী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সাদা স্ট্যাম্পে সই নেয়া সম্ভব হয়নি।
পরে রাশেদা তার বন্ধু হুমায়ুনকে বলে যে সে যেহেতু বাপ্পীকে পাবে না সেহেতু তাকে আর কারো হতে দেবে না। এ চিন্তা থেকে হুমায়ুনকে বাপ্পীর গোপনাঙ্গ কেটে দিতে। হুমায়ুন এতে রাজি না হলেও কিলার গ্রুপের অন্য সদস্য রুবেল এ কথায় রাজি হয় এবং বাপ্পীর গোপনাঙ্গ কেটে নিয়ে তার ছবি মোবাইলে ধারন করে। পরে ভোর রাতে এডভোকেট বাপ্পীর লাশ বাসায় ফেলে রাশেদাসহ সবাই পালিয়ে যায়।
মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, সোমবার সকালে রাশেদা ও হুমায়ুন নামে দুজনকে কুমিল্লার মিয়ার বাজার থেকে আটক করা হয়েছে। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে নগরীর ইপিজেড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল আমিন (২৮), মো.পারভেজ প্রকাশ আলী (২৪), আকবর হোসেন প্রকাশ রুবেল (২৩), জাকির হোসেন প্রকাশ মোল্লা জাকির (৩৫)কে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে আইনজীবি মো. ওমর ফারুক বাপ্পীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ নগরীর বাকলিয়ার বড় মিয়া মসজিদের সামনে একটি ভবনের নীচ তলা থেকে। তার হাত-পা ও মুখ বাধাছিল। এবং পুরুষাঙ্গ কাটা ছিল। ও্ই রাতে এই ঘটনায় বাপ্পীর বাবা বাদি হয়ে নগরীর চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।