কুমিল্লা কাস্টমসের ভ্যাটের অভিযানে ফেনসিডিলের চালান আটক

0
38

২০১১ সালে কুমিল্লা কমিশনারেট প্রতিষ্ঠার পর এ প্রথম ফেনসিডিলের বড় একটি চালান আটক করলো কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট টিম। গতকাল গভীর রাতে ৫৮১ বোতল ফেনসিডিল বোতলসহ একটি কাভার্ড ভ্যান (লক্ষ্মীপুর-ট-১১-০০০৭) আটক করা হয়েছে। কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাত আনুমানিক ১১টায় ফেনী থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে মেসার্স শুকতারা ট্রান্সপোর্টের এই কাভার্ড ভ্যানটি কুমিল্লা শহরের দিকে আসে। এ সময় ট্রাকটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নিবারক টিম এটি থামানোর সংকেত দেয়। সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন রিপন সঙ্গে সঙ্গে কমিশনারকে অবগত করলে আটককৃত গাড়িটি তল্লাশি করার অনুমতি দেয়। গাড়িটি তল্লাশি করে ফেনসিডিল পাওয়া যায়। কাস্টমস আইন লঙ্ঘন করায় তা আটক করা হয়। মূলত ভ্যাট ফাঁকির পণ্য ধরতে গিয়ে ফেনসিডিলের এই চালানটি ধরা পড়ে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের চোরাচালান রোধে কঠোর নির্দেশনার ফলে মহাসড়কে অবৈধ পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়।

কমিশনার জানান, করোনাকালেও এ দপ্তরের প্রিভেন্টিভ টিমের কর্মকর্তারা মহাসড়কে নিয়মিত টহল প্রদান করে আসছেন। গত দুই মাস ধরে মহাসড়ক দিয়ে ফেনসিডিল পাচারের গোপন সংবাদ পাওয়া গেলেও এভাবে হাতনাতে ধরা পড়ে এবারই প্রথম। গত দুই মাসে প্রায় ৩০টির অধিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মূসক ও শুল্ক ফাঁকিসহ চোরাচালানকৃত পণ্য বহনের অভিযোগে আটক এবং ১৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি জানান, আটকের পর ট্রাকের পণ্য ইনভেন্ট্রির উদ্দেশ্যে খোলা হয়। কাভার্ড ভ্যানটির সম্মুখে শাহ আমানত লেখা থাকলেও এর গায়ে লেখা মেসার্স শুকতারা ট্রান্সপোর্ট। কাভার্ড ভ্যানের দরজা খোলার পর ছয়টি কাগজের কার্টুন পাওয়া যায়।

কার্টুনের গায়ে ‘ফ্রেশ পিয়ার্স’ লেখা রয়েছে। কার্টুনগুলো খোলার পর প্রতিটিতে ৯৭টি এবং মোট ৫৮১ বোতল পাওয়া যায়। এর আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা।

কমিশনার বলেন, সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন রিপনের তত্ত্বাবধানে ও রাজস্ব কর্মকর্তা আহমদ সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে কুমিল্লা কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ টিম মহাসড়কে ভ্যাট ফাঁকি দেয়া পণ্যের গাড়ি যাচাই করার সময় মাদকদ্রব্য বহনকৃত এই গাড়িটি ধরা পড়ে। গাড়িটির পণ্য পরিবহনের চালান না থাকায় ও গাড়ি চালকের কথায় অসংলগ্নতা পরিলক্ষিত হওয়ায় তা আটক করে কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সদর দপ্তরের সামনে নিয়ে আসা হয়।

কাভার্ড ভ্যানের দরজা খুলে পণ্যের ইনভেন্ট্রিকালে ফেনসিডিল পাওয়া গেলে এক পর্যায়ে চালক দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। তল্লাশির সময় চালকের লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। ফেনী থেকে আসার পথে পণ্যবাহিত কাভার্ড ভ্যানটি কোথাও বাধার সম্মুখীন হয়নি বলে তল্লাশিকালে চালক জানিয়েছে। খালি গাড়িতে দরজার সাথেই কার্টুনগুলো রক্ষিত ছিল।

করোনাকালেও নিয়মিত প্রিভেন্টিভ টহলের অংশ হিসেবে কার্যক্রম চলাকালে আমদানি নিষিদ্ধ মাদক জাতীয় পণ্য আটক করা হয়। আটককৃত মাদকদ্রব্যগুলো ইনভেন্ট্রি করে বর্তমানে কাস্টমসের গুদামে জমা দেয়া হয়েছে। পণ্যের বিষয়ে কাস্টমস আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন রিপন বলেন, এসব চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে গোপন সংবাদদাতা নিয়োগ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই আমরা বড় চালান আটক করতে সক্ষম হবো। আমাদের টিম মাঠে ভালো কাজ করছে বলে নিয়মিত আমরা ভালো ফলাফল পাচ্ছি। আলোকিত কাস্টমস, আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একইসাথে শুল্ক/মূসক ফাঁকি রোধে এবং সরকারের যথাযথ রাজস্ব সুরক্ষার জন্য কুমিল্লা কাস্টমস নিবারক টিমের পক্ষে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।