কিম-মুনের প্রথম সাক্ষাৎ কেন ঐতিহাসিক

0
40

অনলাইন ডেস্ক : বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের আসন্ন সাক্ষাৎ। তবে তার আগে শুক্রবার বৈঠকে বসছেন চির বৈরী দুই কোরিয়ার রাষ্ট্র প্রধান।
দুই কোরীয় নেতার প্রথম দেখা হওয়াকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কমতি নেই। তেমনি সচেতন বিশ্ববাসীও জানতে উদগ্রীব কেমন হতে পারে দুই কোরীয় নেতার ঐতিহাসিক বৈঠকটি।
শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পানমুনজম হচ্ছে সেই ঐতিহাসিক গ্রাম, যেখানে ১৯৫৩ সালে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
শুক্রবারের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলে এটি হবে তৃতীয়বারের মতো কোরীয় নেতাদের সাক্ষাৎ। এর আগে ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের প্রায় অর্ধশত বছর পর ২০০০ সালে এবং পরবর্তীতে ২০০৭ সালে মাত্র দুই বার মুখোমুখি হয়েছিল দুই কোরিয়ার নেতারা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার পূর্বে দুই নেতার বৈঠক গুরুত্ব পাচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা ছাড়াও নিজেদের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন বিষয় এতে গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তরিক আলোচনার মনোভাব নিয়েই দুই কোরিয়া বৈঠকে বসবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সংযোগকারী মন্ত্রী চো মিয় গিয়ন।
দুই কোরীয় নেতার ঐতিহাসিক এ বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং স্থিতি বজার রাখার মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে হটলাইন যুগের সূচনা হতে পারে এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে।
কূটনীতিকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার আগে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের উন্নতির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বৈঠকে। কিম জং উন এবং মুন জা ইনের বৈঠক সফল হলে তা ট্রাম্পের বৈঠকেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশষজ্ঞরা।
এতদিন উত্তর কোরিয়াকে লক্ষ্য করে যে লাউড স্পিকার বা মাইক বাজানো হতো ইতিমধ্যে তা বন্ধ করে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এসব সিদ্ধান্ত এবং মনোভাবকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গোটা বিশ্ববাসীর মতো এ দুই রাষ্ট্রনায়কের বৈঠকের দিকে চেয়ে রয়েছে দুই কোরিয়ার অধিবাসীরাও। কেননা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেই ৬৫ বছর পর স্বজনদের দেখার সুযোগ মিলবে বলে মনে করছেন তারা। এর জন্য প্রস্তুতিও নেয়া শুরু করেছেন দেশ দুটির সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত অধিবাসীরা।
১৯৫৩ সালে পানমুনজমে চুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধ কার্যত থেমে যায়। তবে ৩৮ ডিগ্রি অক্ষরেখা বরাবর যে সীমানা টানা হয়, এর ফলে দুই দেশে ভাগ হয়ে পড়ে অনেক পরিবার। অর্ধশতকের বেশি সময় ধরে এসব স্বজনের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করতে পারেননি তারা।
সে সময়ে বিভক্ত হওয়া মানুষদের বয়স এখন শতকের কোঠায়। অনেকে এরই মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। যারা বেঁচে আছেন। তাদের একমাত্র ভরসা কিম-মুনের বৈঠক-সংলাপ। দুই কোরিয়ার এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ।
গত শীতকালীন অলিম্পিক থেকে ঐতিহাসিক সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে দুই কোরিয়া। এরই মধ্যে একাধিকবার দেশ দুইটির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতেরও প্রস্তাব দেন কিম। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন