কালো কচুঁতেই আলো ফুটছে কৃষকের মুখে

0
154

রাণীশংকৈল থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ : অল্প পরিশ্রম করে অধিক লাভবান হওয়া যায় এমন একটি ফসল কালো কচু। এই কালো কচু চাষ করেই লাভবান হচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের প্রান্তিক চাষিরা। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের কচু’র চাষ হলেও খাবার উপযোগী এই কালো জাতের কচুতে হাসি আর আলো ফুটেছে কচু চাষীদের চোখে মুখে ।

উঁচু জমিতে অল্প পরিশ্রমে অধিক ফলন পাওয়া যায় এছাড়াও বাজারে ভালো দামে বিক্রি করা যায় বলে এই অঞ্চলের জানিয়েছেন চাষিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের কালো কচু চাষ করেছেন চাষী শাহাদত হোসেন। আরেক কচু চাষি মোবারক আলী জানান, এটি এমন একটি ফসল যা থেকে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়া যায়। তেমন একটা খরচ এবং পরিশ্রম ছাড়াই দু-একটা নিড়ানী এবং জৈব সার দিয়ে উৎপাদনে লাভ বেশি হয়।

এতে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা। তাই তিনি প্রতিবছর তার বাড়ির পাশে এই কচু’র চাষ করেন। এবার তিনি ৩৩ শতাংশ জমিতে এই কচু চাষ করেছেন। কিছু দিন আগে এই জমির অর্ধেক কচু তুলে প্রতি কেজি ৩৯ টাকা দরে বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন।

আর জমির বাকি কচু আরোও ভালো দামে বিক্রি এবং ওই জমি থেকে ৬০-৬৫ হাজার টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী । মোবারক আলীর এর মতো উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষকও কালো জাতের এই কচু চাষ করছেন।

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা কচু চাষী মো: দুলাল বলেন, জমিতে কচুর বীজ রোপণের কয়েকমাস এর মধ্যেই নতুন কচু বাজারে বিক্রি করা যায়। এই সবজি চাষে কৃষকের উৎপাদন খরচও কম লাগে। আমি এবার কয়েকশতক জমিতে সাদা কচু চাষ করেছি এবং আগামীতে তিনিসহ বেশ কয়েকজন চাষি এই কচু চাষে ঝুঁকে পড়বেন বলে তিনি আশাবাদী।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় বেদনাথ জানান,কচু শাক একটি বিষমুক্ত সবজি। কচুর শাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি , সি , ক্যালসিয়াম ও লৌহ আছে । ভিটামিন “এ” ছোট-বড় সবার রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন “সি” শরীরের যে কোনো ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই কচু চাষীদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি ।