ওজন কমানোর আটটি কার্যকর উপায়

0
267

অনলাইন ডেস্ক : ওজন এবার কমিয়েই ফেলব। বারবার নিজের সঙ্গে এই শপথ করার পরও অনেকেই বিফল হচ্ছেন। তাদের জন্যই আটটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো।
১। ভরপেট সকালের নাশতা
তিন বেলা খাবারের মাঝে সকালের নাশতাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনের শুরুতে ঠিকমতো খান না অথবা একদমই খান না তাদের ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি থাকে। ধমনীতে প্ল্যাকের সৃষ্টি হয়, যার দরুন বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়াসহ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
২। তালিকা ধরে খাবার…
ওজন বৃদ্ধির একটি মূল কারণ হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। অস্বাস্থ্যকর বলতে যে শুধু রাস্তার পাশের খোলা খাবার বোঝায় তা নয়। ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, ভারী খাবার যেমনÑ তেহারী, বিরিয়ানি এই সব খাবারই ওজন বাড়ার জন্য যথেষ্ট। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন প্রচুর সবজি, সালাদ, ফল এবং পানি। ভারী খাবার পরিমাণে কম খান। নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট অনুসরণ করতে পারলে তা ওজন কমানোর জন্য সহায়ক।
৩। কোমল পানীয়কে ‘না’ বলুন
ওজন কমাতে চাইলে সব ধরনের কোমল পানীয় বর্জন করুন। কোমল পানীয়তে থাকে অতিরিক্ত চিনি যা খুব দ্রুত ওজন বৃদ্ধি করে। শুধু কোমল পানীয়ই না, প্যাকেটজাত ফলের রস, এনার্জি ড্রিঙ্কগুলোও পান করা থেকে বিরত থাকুন। এতে ধীরে ধীরে আপনার ওজন কমতে থাকবে।
৪। পরিমিত ঘুম
ঘুম ঠিকমতো না হওয়ার কারণেও ওজন বেড়ে যায়। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক কমপক্ষে ৭ ঘণ্টা ঘুম মানুষকে শর্করা জাতীয় খাদ্য কম খেতে সাহায্য করে। কম ঘুম শুধু যে ক্ষুধা বাড়ায় তাই নয়, ক্যালোরি ধ্বংস করে খুবই কম। এক রাত যদি ভালোমতো ঘুম না হয়, তাহলে সুস্থ মানুষের শরীরেও ক্লান্তি ভর করে, অবসাদ জেঁকে বসে। এর আগেও বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঘুমের ব্যাঘাত ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
৫। কৃত্রিম চিনি বর্জন করুন
যারা খাবার বা পানীয়তে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করেন তাদের জন্য দুঃসংবাদ। কৃত্রিম চিনি ওজন বাড়ায়। যারা প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে খাবারের সঙ্গে কৃত্রিম চিনি খাচ্ছেন, ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তাদের রয়েছে।
৬। খেতে হবে ধীরে-সুস্থে
তাড়াহুড়া করে খাবার খাবেন না। খাবার ভালো করে চিবিয়ে তারপর গলাধঃকরণ করুন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আস্তে ধীরে চিবিয়ে খাবার খান তাদের ওজন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম। ধীরে খাবার চিবালে পরিপাকের সময় প্রতি ৩০০ ক্যালরিতে ১০ ক্যালরি হ্রাস পায়।
৭। ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়
যখন আপনি ওজন কমাতে যাচ্ছেন, তখন বারবার ওজন কমল কি না এই চিন্তা থেকে বিরত থাকুন। ওজন তো একবারেই কমবে না। তার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যায়ামের সময় প্রচুর ঘাম ঝরবে। খানিকটা কষ্ট হবেই। কষ্ট হলেও পিছিয়ে যাওয়া যাবে না। এত কিছু করছি তাও ওজন কমছে না, বারবার এই চিন্তা করা যাবে না।
৮। শরীরচর্চা
পুষ্টিকর ডায়েট ওজম কমাতে কার্যকর। ওজন কমে যাওয়ার পর আবার যেন বেড়ে না যায় সেজন্য প্রতিদিনই শরীচর্চা করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক বেশি ওজন কমিয়ে ফেলার পর শুধুমাত্র শারীরিক ব্যায়াম না করার কারণে ওজন আবার বেড়ে গেছে। ওজন কমার পরও যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের কর্মদক্ষতা অন্যদের তুলনায় ১৬০ শতাংশ বেশি থাকে। একই গবেষণায় আরেকটি বিষয় উঠে আসে যে, হঠাৎ করে অনেকখানি ওজম কমে যাওয়ার কারণে বিপাক ক্রিয়া একদমই ধীর হয়ে যায়। তাই শারীরিক ব্যায়াম না করলে পুনরায় ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। (টাইম অবলম্বনে)