এক্সিম ও আইএফআইসির মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ

0
7

অনলাইন ডেস্ক : প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স খোয়ালো দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এক্সিম ও আইএফআইসি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংক সংক্রান্ত জানুয়ারি মাসের প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড এবং আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ বলে প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে।
দেশে ২০১০ সালে শুরু হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পথচলা। বর্তমানে দেশের ২৯টি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন রয়েছে। কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল ১৮টি ব্যাংক। তার মধ্যে নতুন বছরে এসে এক্সিম ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংক বন্ধ করে দিয়েছে তাদের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা।
বাংলাদেশের ব্যাংকের তথ্য মতে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৬ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার। আগের মাসে (ডিসেম্বর) ছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১৯ হাজার। সে হিসাবে দুই ব্যাংকের এই সেবা বন্ধ করার ফলে ২ লাখ ৩১ হাজার গ্রাহক সংখ্যা কমেছে।
মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কেন বন্ধ তা জানতে চাইলে আইএফআইসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যে উদ্দেশ্যে এ সেবা চালু করা হয় সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অন্য ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমরা টিকতে না পারায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রধান মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রসঙ্গে কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি।
গ্রাহকের হিসাবে যে টাকা ছিলো তার কি হবে জানতে চাইলে আইএফআইসি ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধের আগে তারা গ্রাহকের মতামত নিয়েছেন। গ্রাহকের সমস্ত পাওনাও মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক দুটির মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে জানান, যে উদ্দেশ্যে তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন নিয়েছিল সেটি অনেকেই পেরে উঠছে না। এর মধ্যে রয়েছে এক্সিম ও আইএফআইসি ব্যাংক।
তিনি বলেন, ‘তারা অন্য মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। এজন্য তাদেরকে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, মোবাইল ব্যাংকিং নানামুখী ব্যবহার আর সহজলভ্য। এই সেবার মাধ্যমে গ্রামীণ জনজীবন অনেক সহজ হয়েছে। বাস ও ট্রেনের টিকিট থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন পরিশোধ করা, কেনাকাটা করা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা যায় সহজে।