একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকা

0
116

মোঃ অমিত খান, মুন্সীগঞ্জ : আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিওে জমে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকা। ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বইছে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে রয়েছে হেবিওয়েট নেতাদের ছড়াছড়ি। সময়ের প্রেক্ষাপটে অনেক তরুণ নেতাও এই আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শ্রীনগর-সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন। যার সংসদীয় আসন নং-১৭১। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনটি থেকে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনের প্রচার প্রচারনা শুরু করে দিয়েছেন। মূলত এই জেলায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রভাব বেশী। আসনটি এক সময় বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে আওয়ামীলীগের আধিপত্য রয়েছে। তাছাড়া এলাকায় বিকল্পধারা বাংলাদেশ দলের সভাপতি ডাঃ বি.চৌধুরীর জন্মভূমি শ্রীনগওে হলেও প্রায় ১ যুগেও তিনি এলাকায় আসেননি। তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহী বি.চৌধুরী নিজ এলাকায় দুই একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করা ছাড়া মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে তার নির্বাচনী এলাকায় দলীয় কোন প্রকার কার্যক্রম চোখে পরেনি। জাতীয় পার্টির ২/৪ জন নেতাকর্মীও এলাকায় আনাগুনা চোখে পরলেও জামায়াত ও অন্যান্য ছোট খাটো দলের কোন চিহ্ন নেই বললেই চলে।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সরকার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ও বিক্রমপুর ভূইয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডাঃ বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু এবং আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়রসহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার কবীর। সুকুমার রঞ্জন ঘোষ অসুস্থ্যতার কারণে অনেকদিন ধওে এলাকায় আসতে না পারলেও তার নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি খুব শীঘ্রই এলাকায় ফিরবেন বলে তার নেতা কর্মীরা দাবী করছেন। অপর দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তারা বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, শুভেচ্ছা বিনীময় ও গনসংযোগের মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রচারনার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কথা জনগনের মাঝে তুলে ধওে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। তারা বলছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে যার হাতেই দলীয় প্রতিক নৌকা তুলে দিবেন আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা নির্বাচনে তার পক্ষেই এক যুগে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবো।
বর্তমানে ওই নির্বাচনী এলাকায় প্রচার প্রচারনায় আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তরুণ নেতা গোলাম সারোয়ার কবীর। ইতোমধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষসহ তরুণ প্রজন্মেও মন জয় কওে নিয়েছেন বলে দাবি দলীয় নেতা কর্মীদের। তাছাড়া তার প্রত্যেকটি মিছিল, মিটিং, গনসংযোগ ও সভায় সকল শ্রেনী পেশার মানুষের উপস্থিতি হয় চোখে পরার মতো। মনোনয়ন দৌড়ে সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিনের নামও শোনা যাচ্ছে। সেও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে তার নিজ এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্য দিকে আসনটি পুনরুদ্ধাওে বিএনপির নেতা কর্মীরা হতাশায় ভোগছেন। দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব- কোন্দল থাকার কারণে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা মাঠে না নামলেও তাদের অনুসারীরা ব্যানার, ফেস্টুন, পোষ্টার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং বিএনপি’র কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি সভাপতির দাবিদার আলহাজ্ব মোঃ মমিন আলী। তিনি এই নির্বাচনী এলাকার বিএনপি’র দলীয় নেতা কর্মীদের একটি বড় অংশ নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই মনোনয়ন দৌড়ে আল-মুসলিম গ্রুপের কর্ণধার ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপি নেতা শেখ মোঃ আব্দুল্লাহও রয়েছেন।
এছাড়া রয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতিডাঃ বি. চৌধুরী। তিনি দলীয় মনোনয়ন না নিলে আসনটিতে তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
জাতীয় পার্টিও হয়ে এই আসনে এডঃ শেখ সিরাজুল ইসলামের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে শেষ মূহুর্তে জোট-মহাজোটের কারণে পাল্টে যেতে পাওে প্রতিক ও প্রার্থীও নাম। সে ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী এই আসনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে জোট নয় ভোটের রাজনীতি।