ইন্দুরকানীতে কৃষকলীগ নেতার অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন

0
105

এস সমদ্দার, পিরোজপুর ব্যুরো : পিরোজপুরের দক্ষিণের জনপদ ইন্দুরকানীর প্রত্যন্ত অঞ্চল পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামে কঁচা নদীর বেড়ীবাঁধ লাগোয়া এক প্রভাবশালী  ওই এলাকার সরকারদলীয় কৃষকলীগ নেতা গড়ে তুলেছেন ‘কেবিআই’ নামের ইটভাটা। শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্থ ফসলী জমির মালিক ও স্থানীয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে ওই অবৈধ ভাটা বন্ধের দাবীতে ত্রিশ মিনিটের মানববন্ধন করেছেন ভাটার সামনে। অধিবাসীরা প্রশাসনকে অভিযোগ দিলে ভাটা মালিক ও কৃষকলীগ নেতা রুহুল আমীন বাঘা তেলে-বেগুনে আরও ক্ষেপে যান। সাংবাদিকদেরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ইটভাটা করেছি, পারলে সাংবাদিকরা বন্ধ করুক বলে হুমকী দেয়। ওই উপজেলায় ৭/৮টি ইটভাটা গড়ে উঠলেও তন্মধ্যে অন্তত পাঁচটির কোন বৈধ কাগজ পত্র নেই বলে প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে। চন্ডিপুর গ্রামের ভ ূক্তভোগী ভ ূমি মালিকগন ও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কমিটির সভাপতির প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী ওই নেতার বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে ফসলী মাঠে গিয়ে দেখা গেল, স্থানীয় অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ ও গ্রামবাসী কেবিআই ইটভাটা বন্ধের দাবীতে শুক্রবার মাঠে এসে অভিনব মানববন্ধন করেছেন। ইটভাটা সংলগ্ন বসত ভিটার বিভিন্ন ফলজ ও বনজ বৃক্ষ ভাটার আগুনে ঝলসে বিবর্ণ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ ফসলী জমির মালিকরা জমির ভূক্তভোগী মালিক মশিউর রহমান, শহীদুল ইসলাম দোদুল, তহমীনা বেগম, হাওয়া বেগম, নার্গিস বেগম, কবিরুল ইসলাম, সালেক ফরাজী ও সাবেক মেম্বার আব্দুল হক উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা ১০ বছর আগে সিডরে জানমালসহ বিপুল সম্পদ খুইয়েছি, যার ধকল এখনও সামলে উঠতে পারিনি। এখন আবার নতুন উপদ্রপ অবৈধ ইটভাটা, আগামীতে ক্ষেতের ফসল ভাল না পাইলে নদী ক ূলের মানুষ আমরা না খাইয়া মরতে হবে। তাদের আরও অভিযোগ, জমিতে পুকুর কেটে ইটভাটায় মাটি উত্তোলনের ফলে পাশের জমি পুকুরেই ভেঙ্গে পরছে। ফলে বাধ্য হয়েই জমির মালিকরা কম মূল্যে ইটভাটায় তাদের জমি বিক্রয় করতে বাধ্য হবে। গ্রামের অনেক নি¤œ আয়ের জমির মালিক রুহুল বাঘার প্রভাবের কারনে সত্য কথাগুলো বলতে এখন ভয় পাচ্ছেন।  এরই মধ্যে চার বিঘা ফসলী জমি ক্রয় করে বাকী আরও প্রায় চার বিঘা জমি স্থানীয়দের কাছ থেকে মৌখিকভাবে বাৎসরিক ১০ মন ধান দেয়ার চুক্তি করে ইটভাটায় শ্রমিক লাগিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছেন উপজেলা কৃষকলীগের সেক্রেটারী রুহুল আমীন বাঘা।
বালিপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও চন্ডিপুর ৩১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, ধানী জমিতে ইটভাটা নির্মান যেমন আইনসম্মত নয়, তেমনি বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক পরিবেশ দূষনের সম্মুক্ষীন হবে। কেবিআই ইটভাটার মালিক ও কৃষকলীগ নেতা রুহুল আমীন বাঘা দাম্ভীকতার সঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের গ্রামে কোন ভাটার বৈধ কাগজ পত্র নেই, তাই আমারও নেই। পারলে সাংবাদিকরা বন্ধ করুক।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী নির্বাহী অফিসার  রাজীব আহমেদ মতবাদকে বলেন, আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে উভয় পক্ষের শুনানি নিয়েছি এবং এডিএম স্যার ও পৃথক ভাবে শুনানি নিয়েছে। যেহেতু পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের বরাবরেও আবেদন রয়েছে সেহেতু তার পরামর্শে খুব শীগ্রই এটির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।