আলোচনার বিকল্প ‘রাস্তায় যুদ্ধ’: ফখরুল

0
237

অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আবারও সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংলাপের কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে সরকারকে সতর্ক করেছেন, আলোচনার বিকল্প হলো রাস্তায় নেমে ‘যুদ্ধ’।
রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-আই এর এক টকশোতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
ফখরুল বলেন, ‘আলোচনার বিকল্প কী? বিকল্প হচ্ছে রাস্তায় নেমে যুদ্ধ করা। সেটা আমরা সচেতনভাবে এড়িয়ে যেতে চাই। সচেতনভাবে একটা অবস্থা তৈরি করতে চাই।’
বর্তমান সংকট নিরসন না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘একই কথা বারবার করে বলে লাভ নেই। আমরা জাতি হিসেবে কি এতটাই অযোগ্য যে আমরা আমাদের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য প্রতি ৫ বছর পর পর একটা নির্বাচন হবে, কিন্তু এখনো সেটা একটা স্থায়ী প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে পারলাম না?’
‘এখনও প্রতিবার নির্বাচনের আগে লড়াই করতে হবে, যুদ্ধ করতে হবে, অনেক জীবন চলে যাবে, একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে।’
‘বর্তমান অবস্থার জন্য বিএনপি কতটা দায়ী?-এমন প্রশ্ন রেখে অনুষ্ঠিত হয় এই আলোচনা। মির্জা ফখরুল পুরো দায় আওয়ামী লীগকে দিয়ে বলেন, ‘যেখানে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে আসা যায়। তাহলে দায়টা কার? দায়টা সরকারের।’
১৯৯৬ সালের ১২ জুন থেকে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের তিনটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসা বিএনপিই সংবিধানে এই ব্যবস্থা সংযোজন করে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ায়।
তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারে থাকার সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবে তা নিয়ে বিতর্ক উঠে। তখন বিধান ছিল সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। আর কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ায় জোট সরকার।
কে এম হাসান এক সময় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তিনি দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকও ছিলেন। তাকে মানতে অস্বীকার জানায় আওয়ামী লীগ আর আন্দোলনের মুখে কে এম হাসান জানান তিনি এই পদের জন্য আগ্রহী নন।
সে সময় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী অন্য নানা বিকল্প চেষ্টা না করেই ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হয় আর তিনি ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের চেষ্টা করেন।
সেই সময়ের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে ভোটের ১১ দিন আগে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে। ইয়াজউদ্দিন আহমেদ জরুরি অবস্থা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পদ ছেড়ে দেন।
ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন করার পর নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে দায়িত্ব ছাড়ে তারা।
এরপর উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে এবং আওয়ামী লীগ সরকার সে সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচিত সরকারের অধীনে ভোটের বিধান করে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিতে বিএনপির কোনো দায় নেই বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।
টকশোর সঞ্চালক জিল্লুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনি প্রশ্ন আপনি করেছেন এই সংকটে আমরা কতটা দায়ী? এখানে তো আমাদের দায় থাকার কারণ নেই।’
‘১৯৯৬ সালে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিটা আসলো। এ দাবিটা আসলো আজকে যে সরকার প্রধান তার থেকে, আজকে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। তখন তাদের যে যুক্তি ছিল, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।’
‘সেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার। না হলে, যারা ক্ষমতায় থাকে তারাই ক্ষমতা দখল করে থাকতে চায়। আন্দোলন হলো। ১৭৩ দিন হরতাল হলো। বহু জীবনও গিয়েছে সে সময়।’
‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা তাদের ক্ষমতা দিতে তা (সংবিধান) পরিবর্তন করে নিলেন। সেটা কিন্তু কেউ চাচ্ছিল না। কোনো প্রয়োজনও ছিল না। এটা পাস করার আগে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সংবিধান সংশোধনী কমিটি। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের মতামত দিয়েছে।
‘একমাত্র জাতীয় পার্টি ছাড়া সব রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে ছিল। সেই জায়গায় সরকার কেন এই অবস্থায় ফিরে আসবে? সে দায় বিএনপির কি না? সেটা তো বিএনপিকে জিজ্ঞেস করার প্রশ্নই ওঠে না।’
২০১৪ সালে বিএনপির বর্জনের মুখে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠন করা সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘একটা সরকার তৈরি করেছি যে সরকারে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই। পার্লামেন্ট তৈরি করেছে যে পার্লামেন্টে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই।’
বর্তমান সংসদ সংবিধান অনুযায়ী গঠিত হয়নি এবং গণতন্ত্রের বিষয়টা পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
প্রধানমন্ত্রীর ভোট চাওয়ার সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা করে ভোট চাওয়ারও সমালোচনা করেন ফখরুল। বলেন, ‘আপনি জনসভা করছেন। হেলিকপ্টারের করে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। আর আমাদের নেত্রী জেলখানায়। প্রায় ৭৮ হাজার মামলা আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সাড়ে চার হাজার গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই কয়েকদিনে। তাহলে নির্বাচন কোথায়?
বাপ্র /০৫-০৩-২০১৮/নিপু রাজ