‘আর দুই মামলায় জামিন হলেই খালেদার মুক্তি’

0
56

অনলাইন ডেস্ক : দুর্নীতির মামলার সোয়া এক বছর ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর দুই মামলায় জামিন পেলেই মুক্তি পাবেন জানিয়েছেন তার আইনজীবী মওদুদ আহমদ।
তবে যে দুটি মামলায় বিএনপি নেত্রী এখনো কারাগারে, সে দুটিতেই তার দণ্ড হয়েছে। এর একটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, যার দণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। এই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে হবে ১০ বছর।
অপরটি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা, যার আদেশ এসেছে বিচারক আদালত থেকে। এই মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর। আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলেও শুনানি হয়নি এখনো।
দুই মামলায় দণ্ড এবং সব মিলিয়ে অন্তত ৩৪টি মামলা থাকা বিএনপি নেত্রী মঙ্গলবারও দুটি মামলায় জামির পেয়েছেন হাইকোর্ট থেকে। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মওদুদ।
যে দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে আর কারাগারে থাকতে হবে না তোর একটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ২০১৪ সালে এবং অপরটি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে করা হয় ২০১৬ সালে।
মামলা দুটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হওয়ার আগে তা তামিল করেনি পুলিশ। এরপর বিএনপি নেত্রীকে একে একে বেশ কিছু মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নির্বাচনের আগে ও পরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং পরে রায় হওয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার দেখানো বাকিগুলোতে জামিন পান খালেদা জিয়।
মঙ্গলবার দুই মামলায় আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন, এ কে এম এহসানুর রহমান প্রমুখ।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান।
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আর দুটি মামলায় তিনি জামিন পেলে মুক্তি পাবেন। একটা হলো জিয়া অরফানেজ মামলা আরেকটা হলো জিয়া চ্যারিটেবল মামলা।জিয়া চ্যারিটেবল মামলায়ও জামিন আবেদন করা হয়েছে। ওই মামলায় নথি আসতে আর ১২দিন বাকি আছে। আশা করি ১২ দিন পর ওই মামলায় তার জামিন শুনানি হবে।’
সাবেক আইনমন্ত্রীর অভিযোগ, দুই মামলায় দণ্ড হলেও সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকলে বিএনপি নেত্রী আগেই মুক্তি পেতেন। বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকতে বিভিন্ন মামলা দিয়ে তাকে কি করে আরও বেশি দিন জেল খানায় রাখা যায় সে ব্যবস্থা সরকার করেছিল। যে দুটি মামলা আজকে হাইকোর্ট পর্যন্ত এসেছে। তা হাইকোর্ট পর্যন্ত আসার কথা নয়। এসবই মামলি মামলা।’
‘এই মামলায় জামিনের জন্য তাকে আজ হাইকোর্ট পর্যন্ত আসতে হয়েছে। আরেকটা আছে মানহানির মামলা। যেটা জামিনযোগ্য মামলা। সুপ্রিমকোর্টের রায়ে আছে জামিনযোগ্য মামলা যদি হয় তাহলে জামিন দিতে বাধ্য আদালত। কিন্তু তারপরও দেওয়া হয়নি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। এসব আমরা জানি।’
‘যাই হোক আজকে দুটো মামলাতেই ছয় মাসের জামিন দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ আমাদের জন্য সহায়ক হবে।’