আমাদের দাবিও এভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে: মওদুদ

0
424

অনলাইন ডেস্ক : কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের দাবি সরকার যেভাবে মেনে নিয়েছে, বিএনপির দাবিও একইভাবে মেনে নিতে বাধ্য হবে বলে মনে করেন মওদুদ আহমদ।
বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এই মন্তব্য করেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটি সরকারের পরাজয়।
বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি ২০১৫ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে নেমেও খালি হাতে ঘরে ফিরেছে। আবার গত ৮ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর দুর্বার আন্দোলন গড়ার স্বপ্নও পূরণ হয়নি।
তবে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের পর মওদুদের বিশ্বাস জমেছে, তাদের আন্দোলনও সফল হবে।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘এভাবেই আগামীতে আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা কায়েম করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’
কোটা সংস্কারের আন্দোলনে সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে মানুষ ও ছাত্রসমাজের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের প্রতিফলন বলেও দাবি করেন মওদুদ। বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা দেখছে দেশ কীভাবে চলছে, দেশে কী ধরনের গণতন্ত্র আছে। এ আন্দোলনের গভীর তাৎপর্য আছে।’
কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকারের পরাজয় হয়েছে বলে মনে করেন মওদুদ। বলেন, ‘সরকার বুঝে গেছে এই আন্দোলন চলতে থাকলে তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। তাই সরকার দাবি মেনে নিয়েছে।’
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবি জানিয়ে বেশ কয়েকবার আন্দোলনে নেমে অসফল হওয়ার পর এবার কোটা সংস্কারের দাবি সামনে নিয়ে আসে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি সংগঠন।
আর সারা দেশে শিক্ষার্থীদের এক যোগে আন্দোলনের মুখে সন্ধ্যায় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চাকরিতে কোনো কোটাই থাকবে না। সংস্কারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংস্কার করতে গেলে, কয়দিন পর আরেক দল এসে বলবে আবার সংস্কার চাই। কোটা থাকলেই হবে সংস্কার। আর না থাকলে সংস্কারের কোনো ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই।’
কিছুক্ষণ পর প্রেসক্লাবের আলোচনায় এ বিষয়ে কথা বলেন মওদুদ। তিনি বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণার মাধ্যমে সরকারের পরাজয় হয়েছে।’
‘গণমাধ্যমে দেখলাম, সংসদে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশে কোনও কোটা ব্যবস্থা থাকবে না। কোটা সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলন যদি চলতে থাকে, তাহলে তাদের পক্ষে ক্ষমতায় থাকাটা কঠিন হবে। বিষয়টি বুঝতে পেরেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘নির্বাচনে সেনা মোতায়েন: নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি এসএম ইউসুফের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।