আবার সুঁতা উৎপাদনে ফিরলো নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস্

0
117

শাহজাহান আলী, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস ফের সূতা উৎপাদনে ফিরেছে। গত ২৭ নভেম্বর বিকালে আনুষ্ঠনিকভাবে সূতা উৎপাদন শুরু করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর এমপি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের চেয়ারম্যান বীরপ্রতীক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আহমেদ জাকারিয়া, বিটিএমসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (বোর্ড ও আইন) কাজী ফিরোজ হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম, পুলিশ সুপার জাকীর হোসেন খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদসহ মিলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে সংষ্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর বলেছেন, “বন্ধ থাকা রাষ্টায়াত্ব সব প্রতিষ্ঠান চালু করে সেগুলোকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। এতে পরিচালনার দায়িত্ব প্রাইভেট সেক্টরের হাতে থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা সরকারের হাতে থাকবে”।
আর বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আহমেদ জাকারিয়া, বীর বিক্রম বলেন, দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলসসহ দেশের ১৬টি টেক্সটাইল মিলস প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশীপ সিস্টেমে চালু করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তিনটি টেক্সটাইল মিল চালু হবে। নীলফামারীসহ বাকী মিলগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে চালু হওয়া এ মিলটি ১৯৯৭ সালে মূলধন সংকটের অযুহাতে বন্ধ করে রাখা হয়। এরপর পরের বছর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত মিলটি সার্ভিস চার্জে চালু রাখা হয়। এরপর এক মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার থেকে ভাড়ায় চালু হলো এ মিলটি।
দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলসটি পুনরায় সুতা উৎপাদনে যাচ্ছে খবরে শুধু রংপুর বিভাগের তাঁতীরা নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানের তাঁতীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কারন এই মিলের উৎপাদিত সূতা অনেক মানসম্মত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের অধিনে ১৯৮০ সালে ২৫ এপ্রিল দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি উদ্বোধন করা হয়েছে। সেসময় ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫ হাজার ৫৬টি জার্মানী টাকু মেশিন স্থাপন করে মান সম্মত সূঁতা উৎপাদন করা হতো। এই মিলের সুঁতা পেতে দেশের বিভিন্ন স্থানের তাতী ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ লাইন ধরে অবস্থান করতো। সে সময় মিলে ৭০৪ জন শ্রমিক, ৯৭ জন কর্মচারী ও ২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিল। মিলটি সুঁতা বিক্রিতে ছিল অত্যন্ত লাভজন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে লোকসান দেখিয়ে এটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।