‘আপনি যেন বারবার কইরা ক্ষমতায় আসতারেন’

0
24

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন আবার ক্ষমতায় আসতে পারেন, সেটি কামনা করেছেন সরকারের সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেশ কয়েকজন ভাতাভোগী।

এই ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়ায় সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন আগে তাদের জীবন ছিল দুর্বিসহ। এখন পরিবারে তাদের অবস্থান এখন আগের চেয়ে ভালো।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি যুক্ত হন বেশ কয়েকজন ভাতাভোগী।

প্রধানমন্ত্রী ছিলেন গণভবনে। এখান থেকে তিনি ভাতার টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফার এবং উপকারভোগীদের মোবাইলে এই তথ্য পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথমে চালু হয় বয়স্কভাতা। শুরুতে চার লাখ ৩০ হাজার মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়। এখন এই সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। আর ধীরে ধীরে যুক্ত হয়েছে বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, চা শ্রমিক ভাতা, হিজড়া, বেদে ভাতা। সব মিলিয়ে সংখ্যাটি এখন প্রায় ৬৭ লাখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ভাতা দিলেও যাদের কাজ করার ক্ষমতা আছে, তাদের উপার্জনের দায়িত্ব নিজেদেরকেই নিতে হবে। আর সে জন্যও ঋণ সহ নানা সুযোগ করে দেবে সরকার।

অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ থেকে যোগ দেন সুবিধাভোগী

বাবুল গাজী। দুটি পা নেই তার। তিনি বলেন, ‘ভাতা পাওয়ার আগে নিজেকে অসহায় মনে করতাম। যেদিন থেকে ভাতা পাই, সেদিন থেকে নিজেকে আর অসহায় মনে করি না।’

‘আমার মা, আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার মতো অচল সন্তানদের পাশে আছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য কত কি করতেছে। আমি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ঋণ নিয়ে ছোট্ট একটা ব্যবসা করতেছি, তাতে আমি ভালো আছি। আমার সংসারের সবাই আগের থেকে ভালো আছে। আমি কোনো বোঝা না যে আমি কারও ওপর নির্ভর করব।’

বাবুল বলেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আল্লাহ অনেক দিন আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখুক এবং সে যেন বারবার নির্বাচিত হয়ে আমার মতো দুঃস্থদেরকে, প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে পারে।’

‘আল্লাহর আছে আরও দোয়া করি, তুমি তাকে সকল বিপদ আপদের থেকে রক্ষা করো। সে যেন দেশ ও দশের জন্য কাজ করতে পারে।’

এরপর নরসিংদী থেকে যোগ দেন প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়া একজন পুরুষ। নিজের নাম জানাননি তিনিভ বলেন, ‘আমার আগে অনেক কষ্ট হইত, আপনি আসার পর আমি ভাতাটা পাই। আমার পরিবার নাই, আমার ছেলে মেয়ে নেই। এই ভাতাটা নিয়া আমি আগের থেকে অনেক ভালো আছি।’

‘আপনি আমাদেরকে অনেক উৎসাহ দিছেন। এই উৎসাহে আমি অনেক খুশি হয়ে, আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। আপনি যেন বারবার আমাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসতে পারেন, সেই জন্য দোয়া করি।’

একই জেলা থেকে বিধবা ভাতা পাওয়া একজন নারী বলেন, ‘আপনার বিধবা ভাতা পাওয়ার পরে আমি অনেক খুশি মা। আপনি অনেক ভালো। আপনি বারবার আয়েন যেন আমাদেরকে আরও ভালো কইরা দিতে পারেন। দোয়া করি মা, আপনি যেন বারবার কইরা ক্ষমতায় আসতারেন।’

ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা চালু হওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে এই ভাতাভোগী বলেন, ‘আগে অনেক কষ্ট পাইতাম মা, এখন আর কোনো কষ্ট নাই। এখন মুবাইলে টেকা আসবে। এখন কোনো গেঞ্জাম নাই।’

কিশোরগঞ্জ থেকে বিধবা ভাতাভোগী রহিমা আক্তার বলেন. ‘আপনি যে সহযোগিতা করেছেন, আমার খুব উপকার হয়েছে। আমি সংসারের কাজে লাগাই, ওষুধপত্র খাই। এই অর্থ পেয়ে আমার খুব উপকার হয়েছে।’