‘আন্দোলন করো, কিন্তু একটা গাড়িও যেন না ভাঙে’

0
58

অনলাইন ডেস্ক : ‘তোমরা আন্দোলন করো, কিন্তু একটা গাড়িও যেন না ভাঙে’- নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের প্রতি একই দাবিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলনে থাকা চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
ছাত্রদের টানা আন্দোলনের মধ্যে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করে এই অভিনেতার সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন-নিসচা।
ছাত্রদের উদ্দেশ্যে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘তোমরা যদি একটা গাড়ি ভাঙ, তাহলে অন্যরা এর সুযোগ দেবে, তারা ২০টা, ৩০টা গাড়ি ভাঙবে। কাজেই তোমরা কোনো গাড়িতে হাত দেবে না।
গত রবিবার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের জেরে নয় দফা দাবিতে সোমবার থেকে টানা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে ব্যাঘাতের পাশাপাশি ব্যাপকহারে গাড়ির লাইসেন্সও পরীক্ষা করছে তারা।
তবে রবিবার দুর্ঘটনার পর এবং পরের প্রথম দুই দিন গাড়ি ভাঙচুরও হয়েছে ব্যাপক। বৃহস্পতিবারও পুলিশের একটি মোটর সাইকেলে আগুন দেয়া হয়েছে, একটি জিপ ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে।
ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এ দাবি কোনও অযৌক্তিক বিষয়ে নয়। এ দাবি সকল জনসাধারণের, তাদের দাবি সকলে নিরাপদে ঘরে ফেরার। সরকারকে এ মহৎ উদ্দেশ্যকে সাধুবাদ জানিয়ে শিগগিরই সঠিক সমাধানে পৌঁছানো দরকার।’
মানববন্ধন ও সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, সেভ দ্যা রোড, সন্ধীপ সমিতি ঢাকা, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ও ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ।
এ ছাড়া রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের কলেজের ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে নিসচা।
ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দেয়ার ঘোষণাও দেন ইলিয়াস কাঞ্চন। বলেন, ‘আগামী রবিবারের মধ্যে সরকারকে শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে। যদি সঠিক সময়ে বাস্তবায়নের কাজে ব্যর্থ হয়, তবে আমি আমার সংগঠন নিসচার কর্মীদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করব।’
সেই সঙ্গে সরকারি বাহিনীর কর্মীদেরও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে উদাসিনতার প্রমাণ থাকার সমালোচনা করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। বলেন, ‘অন্যের লাইসেন্স চেক করার আগে যেন নিজেদেরটা নিশ্চিত করা হয়। সেজন্য তাদের ডিপার্টমেন্ট, মন্ত্রণালয় থেকে যেন নির্দেশনা আসে তাদের লাইসেন্স ঠিক করার জন্য।’
“আমরা কয়দিনে দেখলাম যারা দেশ চালাচ্ছেন, তারাই উল্টোপথে গাড়ি চালাচ্ছেন। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণে তারা যেন বলেন, ‘আমরা আর করব না, আমরা দুঃখিত। আমরা সন্তানদের কাছ থেকে শিখেছি আমরা আর করব না, বাবারা তোমরা ঘরে ফিরে যাও’।”
‘এভাবে বললে নিশ্চয়ই আমাদের সন্তানরা ঘরে ফিরে যাবে। আপনারা যদি কাজ শুরু করে দেন তাহলে আমি অবশ্যই বলব, আমার সন্তানরা যেন ঘরে ফিরে যায়।’
সড়ক নিরাপদ করার দাবিতে গত ২৫ বছর ধরে মাঠেই আছেন জানিয়ে এই চিত্র নায়ক বলেন, যতদিন লক্ষ্য অর্জন না হয়, ততদিন তার আন্দোলন চলবে।