অবশেষে ভরাট হলো রীমা কনভেনশন সেন্টারের সেই ‘মৃত্যুকূপ’

0
132

মুহাম্মদ দিদারুল আলম,চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে অবশেষে ভরাট হলো রীমা কনভেনশন সেন্টারের সেই ‘মৃত্যুকূপ’। যে কূপে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো.আবদুল মান্নান বলেন, প্রকৌশলীর নতুন নকশা অনুযায়ী আমরা ফটকের নিচে যে ঢালু পথটি ছিল সেটি প্রায় দেড়-দুই ফুট উঁচু করে দিয়েছি। এর পাশে দুই ফুট উঁচু ইটের দেয়াল দেওয়া হবে। সেখানে থাকবে স্টিলের বেড়া।
আবদুল মান্নান জানান, সোমবার (২৫ডিসেম্বর) প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে ১৬ জন নির্মাণ শ্রমিক ঢালু পথটি ভরাটের মাধ্যমে উঁচু করার কাজটি সম্পন্ন করেছেন।এখনো অনেক কাজ বাকি। সব শেষ করতে চার-পাঁচ দিন লাগবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সুলভ মূল্যে আমাদের কনভেনশন সেন্টার ভাড়া দেওয়ায় অনুষ্ঠান আয়োজকদের কাছে চাহিদা বেশি। ইতিমধ্যে অনেক বুকিং বাতিল করেছি আমরা।
ট্র্যাজেডির দিন আয়োজকদের পক্ষে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী। তিনি বলেন, মৃত্যুকূপ ভরাটের কাজ করার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। প্রকৌশলীদের নকশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে যাতে আগামী দিনে কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেন না থাকে।
রীমা কনভেনশন সেন্টারের মালিক মো.সাহাবউদ্দিন বলেন, রীমা অনেক পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান। ৩০-৩৫ বছর তো হবেই। কয়েক বছর আগে আমরা এটির সংস্কারকাজ করি। প্রায়ই এখানে বিয়েশাদি, মেজবান হয়। কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটেনি। সেদিন মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যা দুঃখজনক।
তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, রীমাতে দুটি ফটক আছে। একটি মানুষের চলাচলের জন্য। অন্যটি গাড়ি পার্কিং স্পেসে ঢোকার জন্য। দুর্ঘটনার দিন গাড়ি ঢোকানোর ফটক দিয়ে মানুষ ঢোকানো হয়েছে। যা ছিল ঢালু। এখন আমরা সেটি ওভারকাম করতে প্রকৌশলীদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জীবনাবসান ঘটে। ১৮ ডিসেম্বর মহিউদ্দিনের কুলখানিতে তার পরিবার নগরীর বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের আয়োজন করে। কুলখানিতে নগরীর এস এস খালেদ সড়কে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে পদদলিত হয়ে দশজনের মৃত্যু হয়। আহত হন ২৫জন।